কিডনি ক্যান্সারের যথাযথ চিকিৎসা রয়েছে। এ রোগ থেকে সেরে ওঠা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। প্রথম দিকে শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে রোগী পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। বেশির ভাগ কিডনি ক্যান্সারের চিকিৎসাই অস্ত্রোপচার। এ জন্য আক্রান্ত কিডনি ফেলে দেওয়া (নেফ্রেকটোমি), রেডিক্যাল নেফ্রেকটোমি এবং নেফরন স্পিয়ারিং নেফ্রেকটোমি করা হয়। নেফ্রেকটোমি করার জন্য চামড়ার ওপর লম্বা করে কাটা হয়। এখন সব ধরনের নেফ্রেকটোমিই ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে করা যায়। আবার কিডনিকে বাঁচিয়ে রেখে কিডনি থেকে টিউমার অপারেশন (নেফরন স্পিয়ারিং নেফ্রেকটোমি) পদ্ধতিতে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে পুরো কিডনির বদলে শুধু টিউমারটি বের করে আনা হয়। বিশেষ করে যাঁদের একটি মাত্র কিডনি থাকে অথবা কিডনি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে তাঁদের ক্ষেত্রে নেফরন স্পিয়ারিং নেফ্রেকটোমি করা হয়। তবে অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ যন্ত্র কিডনির প্রধান রক্তসঞ্চালন ধমনিতে প্রবেশ করিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে টিউমার অ্যাম্বোলাইজেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আবার ক্যান্সার কোষ অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় জমাট বাঁধানোর মাধ্যমে চিকিৎসা বা ক্রায়োবলেশন পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এক ধরনের চিকিৎসা রয়েছে, যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির (আরএফএ) মাধ্যমে করা হয়। দূরবর্তী টিউমারের সংখ্যা, অবস্থান ও স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে যাওয়া বা বিস্তৃত কিডনি ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়। তবে এটা দুরূহ চিকিৎসা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায় না। আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে ইমিউনো থেরাপি ব্যবহার করা হয়। অবশ্য পুরনো ও জটিল কিডনি ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি তেমন কার্যকর নয়।
চিকিৎসা
১) যাদের কিডনী ক্যান্সার টিউমার ৪ সে.মিঃ তাদরে RFA, MWA করা হয়।
দিয়ে চিকিৎসা মাধ্যমে ৯০% রোগীর ক্যান্সার সম্পূর্ন নিমূল করা সম্ভব। এছাড়াও যদি পুনরায় দেখা যায়,তবে আবার RFA, MWA চিকিৎসা করে ক্যান্সার টিউমার নিমূল করা যায়।
২) যাদের কিডনী ক্যান্সার টিউমার ৮ সে. মিঃ এর নিচে তাদের RFA, MWA চিকিৎসা করলে ৭৫% রোগীর ক্যান্সার ৫ বছর এবং পুনরায় দেখা দিলে ২৫% রোগীর ক্যান্সার ২ বছর নিয়ন্ত্রন করা সম্ভর।
এছাড়াও ব্রেষ্ট টিউমার সহ অন্যান সকল সফ্ট টিস্যূ টিউমারের ক্ষেত্রে RFA, MWA চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকরী।
