ডাঃ আহম্মেদ সারওয়ার মুর্শেদ

লিভার ক্যান্সার চিকিৎসা

লিভারের টিউমারের মধ্যে যে টিউমারটি আমরা সবচেয়ে বেশি দেখে থাকি সেটি হলো হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা (HCC), যাকে আমরা সাধারন ভাবে লিভার ক্যান্সার বলে থাকি। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অপারেশন করে ক্যান্সার নিমূল করা লিভার ক্যান্সার রোগের সর্বত্তম চিকিৎসা। কিন্তু অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে তা করা সম্ভব হয় হয় না, কারন আমাদের দেশে অধিকাংশ রোগী দেরীতে ডাক্তার এর সরানাপন্ন হন। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে অপারেশন করা সম্ভব হয় না, সে রোগীকে কেমোথেরাপি (ইনজেকশনের মাধ্যমে ধমনীতে ক্যান্সারের ঔষুধ প্রয়োগ) দিয়ে এরোগের চিকিৎসা করা হয়।

কিন্তু এর কার্যকারিতা খুবই সীমিত এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও অনেক বেশি। তবে আশার কথা হলো বর্তমানে নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সফল প্রয়োগের ফলে এ রোগের চিকিৎসায় এক আমুল পরিবর্তন এসেছে। এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো লোকাল এব্লেটিভ থেরাপী (Local Ablative Therapy) নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত কার্যকরী ভাবে লিভার ক্যান্সার চিকিৎসা করা যায়প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্নয় হলে বর্তমানে লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় এ পদ্ধতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে টিউমারকে (লিভার ক্যান্সার) প্রায় ধংস করে ফেলা সম্ভব। এ কারনে লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় এই পদ্ধতি সারা বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ও স্বীকৃতি পেয়েছে।

লোকাল এব্লেটিভ থেরাপী কি কি?
১. TACE (ট্র্যান্স আরটারিয়াল কেমো এমবলাইনজেশন)
২। RFA (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এব্লেশন)
৩। MWA (মাইক্রোওয়েভ এব্লেশন)

১.TACE (ট্রান্স আরটারিয়াল কেমো এম্বালাইজশন)ঃ এই পদ্ধতিতে একটি বিশেষ ধরনের ক্যাথেটার দিয়ে রক্ত নালির মাধ্যমে লিভার টিউমারে প্রবেশ করে এক ধরনের বিশেষ বাহকের সাহায্যে সাধারন কেমোর চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ গুন বেশি ঔষধ (কেমো) সরাসরি লিভারে প্রয়োগ করা হয় ও একই সাথে টিউমারে রক্ত প্রবাহ জেল ফোম (GEL Foam) এর মাধ্যমে বন্ধ করা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে বড় বড় টিউমারকে দুর্বল ও ছোট করে ফেলা সম্ভব হয়। এর কার্যকারীতার হার আনুমানিক ৬০%-৭০% এবং ১ থেকে ১.৫ বৎসর রোগী রোগ মুক্ত থাকে। বর্তমানে বড় টিউমার (8 cm এর চেয়ে বড়) ধবংস করতে TACE  এর আগে অথবা পরে আর এফ এ অথবা মাইক্রোওয়েভ এব্লেশন পদ্ধতির সমন্বয় করে আরো উন্নত চিকিৎসা অত্যান্ত সফল ভাবে করা হচ্ছে। এর ফলাফলও খুবই উৎসাহ বাঞ্জাক। প্রায় ৮০%-৯০% রোগীর ক্যান্সার সম্পূর্ন ধ্বংস হয়ে যায়। এদের অধিকাংশ রোগী অনেক বৎসর সুস্থ্য থাকে।

২.RFA (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এব্লেশন)ঃ এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ৫-৬ সেঃমিঃ লিভার টিউমার কে সম্পূন ধ্বংস করা সম্ভন হয় অথচ আশেপাশের সুস্থ কোষের কোন ক্ষতি হয় না। এ পদ্ধতির সফলতার হার ৮৫%-৯৫%। এ কারনে ৫-৬ সেঃমিঃ লিভার ক্যান্সার এর চিকিৎসা হিসেবে সারা বিশ্বে আর এফ এ (RFA)  সব চেয়ে বেশি সমাদূত। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও খুবই কম।

৩.MWA (মাইক্রোওয়েভ এব্লেশন)ঃ মাইক্রো ওয়েভ এব্লশন থেরাপি ব্যবহার করে ৮-১০ সেঃমিঃ টিউমারকে সম্পূর্ন ধ্বংস করার বর্তমানে এই পদ্ধতি সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী। এ পদ্ধতিতেও টিউমারের পাশের সুস্থ কোষের কোন ক্ষতি হয় না। অথচ টিউমার প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সফলতার হার ৯০%-৯৫%। একারনেই ৮-১০ সেঃমিঃ লিভার ক্যান্সার টিউমার এর কার্যকরী চিকিৎসা হিসেবে সারা বিশ্বে এখন মাইক্রোওয়েভ এব্লেশন থেরাপি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই বললেই চলে।

বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে সুপরিচিত লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ সেলিমুর রহমান এর তত্তাবধানে বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও দেশের সুপরিচিত লিভার বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি সুদক্ষ লিভার ক্যান্সার চিকিৎসা গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে। লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যাপারে যে কোন পরামর্শের জন্য এ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।